দিন দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় আয় বাড়ছে খুব ধীরগতিতে। শহর হোক বা গ্রাম–অনেকেই এখন স্বল্প আয়ে পরিবার চালাতে চাপের মুখে পড়ছেন। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিলে সীমিত সাধ্যের মধ্যেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা সম্ভব।
কী করবেন
প্রয়োজনীয় মুদিসামগ্রী
মাসের শুরুতেই একটি কেনাকাটার তালিকা করুন। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা–এগুলো পাইকারি দোকান বা হোলসেল মার্কেট থেকে কিনলে খরচ ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে। শাকসবজির ক্ষেত্রে সুপারশপের বদলে স্থানীয় হাটবাজারই সাশ্রয়ী। বিকেলের দিকে গেলে আরও কম দামে পাওয়া যায়। তবে দেখেশুনে দরদাম করে নিতে হবে।
ভালো মানের প্রয়োজনীয় পোশাক
নিয়মিত ব্যবহারের জন্য বেশি দামি পোশাক না কিনে টেকসই, ভালো সেলাইয়ের তুলা বা সেমি-কটন পোশাক কিনুন। ঈদ বা পূজার মতো বিশেষ সময়ে অফার বা ডিসকাউন্ট ব্যবহার করলে বাজেট বাঁচে। সস্তা ফ্যাশনেবল কিন্তু নাজুক পোশাক না কেনাই ভালো। কম দামের জুতা যা দ্রুত নষ্ট হয়, প্রথমে কিছুটা খরচ বাঁচাতে পারে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ভালো বিনিয়োগ নয় এবং সময়ের সঙ্গে আরও খরচ বাড়াতে পারে। ফ্যাশন ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে, ভালো মানের পোশাক, জুতা নিতে পারেন। শীতের সময় যখন আপনি একাধিক ট্রেন্ডি সোয়েটার কিনে ওয়ার্ডরোব সাজানোর কথা ভাবছেন, তা না করে বরং একটি ভালো মানের সোয়েটার কিনুন; যা আপনার পছন্দের এবং বেশির ভাগ পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যে কোনো কিছু কেনার আগে ভালোভাবে দরদাম করে নেবেন।
ঘরোয়া সরঞ্জাম
যে জিনিসগুলো বারবার ব্যবহার করবেন (রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ফ্যান)–এসবের ক্ষেত্রে একবার ভালো মানের পণ্য কিনলে সেটি দীর্ঘদিন টেকে। ঘন ঘন মেরামত বা বদলানোর প্রয়োজন হয় না। কেনার সময় ভালো পণ্যটি কিনুন।
যাতায়াত খরচ
অন্যান্য খরচ যখন এড়ানোর সুযোগ থাকে না, তখন যাতায়াতের বাড়তি খরচ নিয়ে ভাবতে পারেন। গন্তব্য স্বল্প দূরত্বের হলে রিকশায় যাতায়াত না করে হাঁটুন। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হবে। গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার বদলে গণপরিবহন যেমন বাস, মেট্রো ব্যবহার করুন।
যা যা পরিহার করবেন
হঠাৎ কেনাকাটা
কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। যে কোনো জিনিস কেনার আগে চিন্তা করবেন, এটি আপনার জন্য কতটুকু প্রয়োজনীয় হতে পারে। অফার দেখলেই প্রয়োজন না হলেও কিছু কেনার অভ্যাস রয়েছে–এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে।
বাইরে খাওয়ার অভ্যাস
নিয়মিত বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা বাইরে খাওয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ঘরে তৈরি খাবারের চেয়ে বাইরের এসব খাবারের গুণগত মান অনেক কম। অনেক সময় বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে নানা রোগ সৃষ্টি করে। বাড়িতে রান্না করলে খাবারের গুণগত মান ঠিক থাকে। সেজন্য বাইরে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
অনলাইন শপিংয়ে অতিরিক্ত আকর্ষণ
আজকাল সামাজিক মাধ্যম খুললেই হরেকরকম চোখ ধাঁধানো জিনিসে ভরপুর সাইটের দেখা মেলে। এ অনলাইন শপিং সহজ, কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়। শুধু প্রয়োজনে অর্ডার দিন।
যেভাবে মিতব্যয়ী হবেন
সঞ্চয়ের অভ্যাস
প্রতি মাসে ৫০০-১ হাজার টাকা হলেও সঞ্চয় করার অভ্যাস করুন। যেন মনে হয় এটি আপনার প্রতি মাসের বেতন থেকে কাটা হচ্ছে। ক্রমে এ অভ্যাস আপনাকে আর্থিকভাবে নিরাপদ করবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সচেতনতা
বিদ্যুৎ এবং গ্যাস দুটোর দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সে জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফ্যান-লাইট বা অন্যান্য ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং চুলা জ্বালিয়ে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন। গ্যাস সাশ্রয়ে রাইস কুকার বা প্রেশার কুকার ব্যবহার করতে পারেন।
মিল-প্ল্যানিং
মিল-প্ল্যানিং মানে সপ্তাহে কোন দিন কী রান্না হবে তার তালিকা তৈরি করা। এতে অপচয় কমে এবং গ্রোসারি কেনাকাটায় অপ্রয়োজনীয় খরচ হয় না।
ব্যবহৃত জিনিস পুনরায় ব্যবহার করুন
কোন জিনিস ফেলনা নয়। সব জিনিসকে রিসাইকেল করে ব্যবহার করা যায়। পরিধান করা পোশাক হোক বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো আসবাব, সবকিছুকেই পরিষ্কার করে নতুন কিছু বানিয়ে নিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: এক্সপেরিয়ান, সিঙ্ক্রনি
Add A Comment

