তারকাজীবন মানেই নানারকম খ্যাতি, প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া। বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহাও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এখনও নানা বিষয়ে কটাক্ষের তীর ছুটে আসে তাঁর দিকে। যদিও বেশির ভাগ সময় নেটিজেনদের সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে গেছেন, কিন্তু এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। বাধ্য হয়েছেন নীরবতা ভাঙতে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকালসূত্রে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত ট্রলিং ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন সোনাক্ষী সিনহা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছে যে, একা দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব। তবে পরিবারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এলে তিনি কখনোই চুপ থাকবেন না, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন ‘দাবাং’-খ্যাত এই অভিনেত্রী।
বলিউডের অভিনেত্রীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ট্রলিংয়ের শিকার হওয়া নতুন কিছু নয়। চেহারা, পোশাক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন– কোনো কিছুই বাদ যায় না সমালোচনার ধারালো তীর থেকে। কিন্তু তারকা হলেও, তাদেরও তো ধৈর্য এবং সহনশীলতার একটি সীমা থাকে। ঠিক সেই কথাই এবার অকপটে স্বীকার করে নিলেন সোনাক্ষী সিনহা।
সমাজিক মাধ্যম খুললেই যে অঢেল নেতিবাচকতা চোখে পড়ে, সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, সবসময়ই নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা জরুরি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন নেতিবাচকতার পরিমাণ এতই বেশি যে, একজন মানুষ হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। এটা সত্যিই সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের পথ বেছে না নিয়ে এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই সমস্ত নেতিবাচকতা আপনার সামনে হাজির হয়। কত আর লড়বেন?”– তাঁর এই প্রশ্ন আজকের ডিজিটাল দুনিয়ার আড়ালে থাকা সত্যিকে তুলে ধরে।
তবে এড়িয়ে যাওয়ারও একটি শর্ত আছে। সোনাক্ষী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কখন তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো মন্তব্য একেবারেই অসহনীয় হয়ে ওঠে, কিংবা কেউ যদি আমার পরিবারকে লক্ষ্য করে কিছু বলে, যা আমি কোনোভাবেই সহ্য করব না, তখন আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করি। আমার বিশ্বাস, প্রয়োজন হলে প্রত্যেকেরই নিজের জন্য রুখে দাঁড়ানো উচিত।’
প্রসঙ্গত, সোনাক্ষীর ট্রলিংয়ের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। বহু বছর আগে, ‘দাবাং’ ছবির আগে প্রায় ৩০ কেজি ওজন কমানোর পরেও তাঁকে শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, “এত রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে ৩০ কেজি ওজন কমানোর পরও মানুষ আমার চেহারা নিয়ে কথা বলত। তখন মনে হয়েছিল, যারা এত পরিশ্রম দেখেনি, তাদের কথা পাত্তা দিয়ে লাভ নেই।”
আর সেই আত্মবিশ্বাসের জোরেই তিনি এখন নিজের অবস্থানে অনড়। এ ছাড়াও গত বছর ভিন্নধর্মী জাহির ইকবালকে বিয়ে করার পর থেকেই নানাভাবে কটাক্ষের শিকার হয়ে আসছেন অভিনেত্রী। মাঝেমধ্যে যদিও ট্রলের কড়া জবাব দেন জাহির-সোনাক্ষী দুজনেই।

