আজ পহেলা ফাল্গুন। শীতের রিক্ততা কাটিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’—কবির এই অমর বাণীর মতোই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রাণের কলরব। শুধু প্রকৃতিতেই নয়, আজ বাঙালির মনেও লেগেছে রঙিন ফাগুনের ঢেউ। কাকতালীয়ভাবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় উৎসবের আমেজ যেন বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শীতের জীর্ণতা ঝরিয়ে গাছে গাছে এখন নতুন কচিপাতা। আমের মুকুলে মৌ মৌ ঘ্রাণ আর কোকিলের কুহুতান জানান দিচ্ছে বসন্তের উপস্থিতি। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব সাজে। বাঙালির কাছে বসন্ত মানেই পূর্ণতা আর নতুনত্বের জয়গান।
বাংলা পঞ্জিকার একাদশ মাস ফাল্গুন। জানা যায়, ‘ফাল্গুনী’ নক্ষত্রের নামানুসারে এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত উৎসব পালনের সূচনা হয় ১৯৫০-৬০ এর দশকে। তৎকালীন সময়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে এবং স্বকীয়তা বজায় রাখতে রবীন্দ্রসংগীত ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ শুরু হয়। ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ব্যাপকভাবে পহেলা ফাল্গুন উদযাপন করে আসছে, যা আজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাঙালির কাছে বসন্ত কেবল উৎসবের ঋতু নয়, এটি প্রতিবাদেরও মাস। ১৯৫২ সালের এই ফাল্গুনেই রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল ভাষা শহীদদের রক্তে। রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের সেই আত্মত্যাগের সোপান বেয়েই অর্জিত হয়েছে আমাদের মায়ের ভাষা ও স্বাধীনতা। তাই ফাল্গুন আমাদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি দ্রোহ ও চেতনার প্রতীক।
আজকের এই বিশেষ দিনে তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী ও হলুদ রঙের পোশাকে সেজে উৎসবে মেতেছেন। বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ফুলের দোকান থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। শাহ আব্দুল করিমের সেই বিখ্যাত গান ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে’ যেন আজ সবার মনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
বসন্তের এই আগমনে কেটে যাক সব জরা আর গ্লানি, নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত হোক প্রতিটি প্রাণ—এই প্রত্যাশা আজ সবার।

