নির্বাচনে বড় জয়ের পর দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এই জয় কেবল কোনো দলের নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়। আজ থেকে আমরা এক স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করলাম।”
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রত্যয়
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যসিবাদ বিদায় নিলেও তারা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রেখে গেছে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগোতে হবে।
জাতীয় ঐক্যের ডাক
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। বিভাজন আমাদের দুর্বল করে, আর ঐক্য আমাদের শক্তি জোগায়।” তিনি সকল গণতান্ত্রিক দলকে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার
দলের ঘোষিত ৩১ দফা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট জানান, কোনো ধরনের অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, “দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউ যেন আক্রান্ত না হয়। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আমাদের আগামীর আদর্শ।”
প্রতিহিংসা বর্জন ও রাজনৈতিক প্রকৌশল
ভোটের লড়াইয়ে সৃষ্ট বিবাদ যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জনগণকে কনভেন্স করাই ছিল আমাদের আসল ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা জনগণকে আস্থায় নিতে পেরেছি বলেই আজ এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, তারা সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আইন সবার জন্য সমান হবে এবং কোনো বিশেষ মহলের পরিবর্তে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

