ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ বাসটার্মিনাল এলাকায় কক্সবাজারের ছাত্র-জনতার ব্যানারে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী সড়কে বসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে সৃষ্ট অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। সাড়ে ৫টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব ওমর ফারুক বলেন, হাদির ওপর হামলার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাই আমরা রাজপথে নেমেছি। অনতিবিলম্বে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কক্সবাজারের সমন্বয়ক ও ছাত্র প্রতিনিধিরাও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ছাত্রনেতা এস এ সাগর বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক ছিলেন শহীদ ওসমান হাদি। তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। সরকারকে দ্রুত যথাযথ জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত জানাজার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

