আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কালজয়ী ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই দৃপ্ত উচ্চারণে সেদিন নির্ধারিত হয়েছিল বাঙালির গন্তব্য।
একাত্তরের সেই উত্তাল দিনে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে লাখো মানুষ পায়ে হেঁটে, বাস কিংবা লঞ্চে চেপে রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর মাত্র ১৮ মিনিটের জাদুকরী ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাঁর এই একটি ভাষণই সংশয়ে থাকা বাঙালিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিল।
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি এখন কেবল বাঙালির নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: তবে এবারের ৭ মার্চ পালিত হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছু আইনি বিধিনিষেধ থাকায় এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল করায় দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। এছাড়া এবার দিবসটি ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বড় কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

